ঢাকা, বুধবার 23 September 2020, ৮ আশ্বিন ১৪২৭, ৫ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

কাশ্মিরে হিজাব ছাড়তে অস্বীকার করায় স্কুল শিক্ষিকা বহিষ্কৃত

অনলাইন ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মিরে ‘দিল্লি পাবলিক স্কুল’ নামে বেসরকারি এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার কারণে এক মুসলিম শিক্ষিকাকে বহিষ্কার করার অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই শিক্ষিকাকে হিজাব অথবা চাকরি যেকোনো একটিকে ছাড়তে বলা হয়েছিল। এরপরেই ২৯ বছর বয়সী ওই বিজ্ঞান শিক্ষিকা ইস্তফা দেন।

গতকাল শিক্ষিকাকে চাকরিতে পুণর্বহালের দাবিতে স্কুল চত্বরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। শুক্রবারও এ ঘটনায় ছাত্ররা ক্লাস বয়কট করে এবং ম্যানেজমেন্টকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

গতকাল এই ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জম্মু–কাশ্মির বিধানসভা। এদিন নির্দলীয় বিধায়ক শেখ আব্দুল রশিদ এ নিয়ে সোচ্চার হন। সরকারপক্ষে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী নঈম আখতার বলেন, ‘আমরা একটি বহু-ধর্মীয়, বহু-সাংস্কৃতিক এবং সেক্যুলার দেশে বাস করি। যেখানে কাউকে এক বিশেষ ধরণের পোশাক পরতে বাধ্য করা যায় না। আমরা ফ্রান্স নই।’

তিনি বলেন, ‘এটা একটি বেসরকারি স্কুল। আমরা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করব এবং সত্য ঘটনা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাব।’ সংশ্লিষ্ট স্কুল প্রশাসনের কাছে এ নিয়ে তথ্য জানতে চাইবেন বলেও নঈম আখতার বলেন।

স্কুলের শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রিন্সিপ্যাল তাদের বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো মহিলা শিক্ষক ডিউটি চলাকালীন স্কুল চত্বরে হিজাব পরতে পারবেন না। তাকে সেই নিয়ম পালন করার জন্য আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। 

তবে ওই শিক্ষিকা বলছেন, তিনি যখন কাজে যোগ দেন, তখন এ সংক্রান্ত কোনো চুক্তি বা শর্ত দেয়া হয়নি।

অন্যদিকে, স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ হওয়ায় একে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন কাশ্মীরি নেতারা। 

হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মির একটি মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্য। এখানে ইসলামিক পোশাক পরতে আপত্তি করার গুরুতর পরিণতি হতে পারে।’ তিনি স্কুল প্রশাসনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন।

শনিবার জম্মু-কাশ্মির হাইকোর্ট বার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। মানব রচিত কোনো আইন স্বর্গীয় হুকুমকে রহিত করতে পারে না এবং ইসলামী পোশাক পরার জন্য কাউকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যায় না বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।

‘জম্মু-কাশ্মির মুত্তাহিদা মজলিশ-ই উলেমা’র পক্ষ একে এ ঘটনাকে ওই শিক্ষিকার ধর্মীয় বিষয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ বলে নিন্দা জানানো হয়েছে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ