শুক্রবার ১৪ মে ২০২১
Online Edition

নেপালকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপের প্রথমবার সেমিতে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার: যুব বিশ্বকাপে প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুরে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে নেপালকে ৬ উইকেটে হারিয়ে এই বিশ্বকাপের প্রথমদল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে মেহিদী হাসান মিরাজরা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটা একটা নতুন ইতিহাস। কারণ এর আগে নয় বার যুব বিশ্বকাপে খেললেও সেমিতে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে দশম বারে এসে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আর সেমিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড-শ্রীলংকা ম্যাচের জয়ী দল। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২১১ রান করে নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দল। দলের পক্ষে অধিনায়ক রাজু রিজাল সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল ১১২ রান। জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে জাকির হাসান ও অধিনায়ক মিরাজের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৮.২ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৫ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ১০ বল আগে হাতে রেখে জয় পাওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন।

জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ২১২ রানের টার্গেটটা মোটেও বড় ছিলনা। তবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো না হওয়ায় জয়ের পথটা কঠিন হতে থাকে বাংলাদেশের জন্য। তবে জাকির হাসান আর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ম উইকেট জুটির ১১৭ রানের অপরাজিত পার্টনাশীপই দলকে জয় পেতে অগ্রনী ভুমিকা পালন করে। নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি গতকালও ম্যাচে ব্যর্থ ছিল। কারণ দলীয় ১৭ রানে ওপেনার সাইফ হাসান ৫ রান করে এলবির ফাঁদে পড়লে ভাংগে ওপেনিং জুটি। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পিনাক ঘোষ ও জয়রাজ শেখ হাল ধরে দলকে ৬৩ রানে নিয়ে যায়। তাদের ৪৬ রানের জুটি ভাংগে রান আউট হয়ে। ভুল বোঝাবুঝির কারনে ৩২ রান করে রান আউট হন পিনাক। কারণ দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে দুজনই একপ্রান্তে পৌঁছে যান। ফলে দলীয় ৭৫ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮ রান করে মাঠ ছাড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। দলীয় ৯৮ রানে জয়রাজ আউট হলে শতরানের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়ে বাংলাদেশ। আউট হওয়ার আগে জয়রাজ ৬৭ বলে ৩৮ রান করেন। তবে ৫ম উইকেট জুটিতে ব্যাট করতে নেমে জাকির হাসান ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ১১৭ রানের পার্টনাশীপ গড়ে দলকে জয়ী করেই মাঠ ছাড়েন। এই জুটি শক্ত হাতের ব্যাটিং করার কারনেই পিছনে পড়ে নেপাল। ফলে জয় পেতে বাংলাদেশ যুব দলকে আর তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। দু-জনেই হাফসেঞ্চুরি করেছেন। মিরাজ ৬৫ বলে ৩ চারে হাফ সেঞ্চুরিসহ ৫৫ রান করলেও জাকির ৭৭ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায়  হাফ সেঞ্চুরিসহ করেছেন সর্বোচ্চ ৭৫ রান। দু-জনেই অপরাজিত ছিলেন। বার বার চেস্টা করেও নেপালের বোলাররা এই জুটি ভাংগে পারেননি। নেপালের দামালা ২টি করে উইকেট নেন। এর আগে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২১১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরই গড়ে নেপাল। আর এর পিছনে বড় অবদান রাখেন অধিনায়ক রাজু রিজাল। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার দামালার সঙ্গে ৪৪ রান, চতুর্থ উইকেটে আরিফ শখের সঙ্গে ৫১ রান ও পঞ্চম উইকেটে রাজবীর সিংয়ের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি গড়ে দলকে পৌছে দিয়েছেন ২১১ রানে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছেন নেপালের এই অধিনায়ক। দলের পক্ষে অন্য কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও রাজু রিজাল তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। আউট হওয়ার আগে ৮০ বলে ৮ চার আর এক ছক্কায় করেছেন ৭৫ রান। তবে রাজুর বিদায় হয়েছে রান আউট হয়েই। শুধু রাজুই নয়, নেপালের আরো তিন ব্যাটসম্যান ফিরেছেন রান আউটের ফাদে পড়েই। এদের মধ্যে দামাল ২৫ রান, কুশাল বুরটেল ১৪ রান, সুশীল কানদেল ২ রান করেন।  অবশ্য ইনিংসের শুরুতে দলীয় ১৭ রানে প্রথম আর ১৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে প্রথমেই চাপে পড়েছিল নেপাল। তার পরও দলটি অলআউট হয়নি। ৯ উইকেটে করেছে ২১১ রান।   অবশ্য আরিফ শেখ ২১ রান , ডিপেন্দ্র সিং আইরি ২২ রান ও প্রেম তামাংয়ের ২৪ বলে অপরাজিত ২২ রানের উপন নির্ভর করেই দু‘শত রানের স্কোর পার হয় বাংলাদেশের।  বাংলাদেশের সাইফুদ্দিন ২টি, মিরাজ, রানা ও শাওন ১টি করে উইকেট নেন।
আ.হু/ডি.স

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ