ঢাকা শুক্রবার 20 May 2022, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

স্কুলশিক্ষককে পেটালেন উপজেলা চেয়ারম্যান

বরগুনার তালতলীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু।

উপজেলা চেয়ারম্যানের দাবি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুন্দর আলী ‘একজনের বায়না’ করা জমি কেনায় তাকে মারধর করা হয়েছে।

আহত শিক্ষক সুন্দর আলীকে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি তালতলী উপজেলার ছোট অংকুজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এক বছর আগে অবসরে যান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি শনিবার জানাজানি হয়।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশে যোগাযোগ করা হলে তালতলী থানার ওসি বাবুল আক্তার বলেন, ওই শিক্ষক অভিযোগ করলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টু তার লোকজন নিয়ে তালতলী বাজার থেকে ওই শিক্ষককে পেটাতে পেটাতে তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে আরও মারধরের পর রক্তাক্ত হলে সুন্দর আলীর রক্তাক্ত জামা বদলে নতুন জামা পরিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন সুন্দর আলীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নাছিমা।

নাছিমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের কেনা একখণ্ড জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিচ্ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টু।

“জমি না ছাড়লে ৬০ লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় আমার স্বামীর হাত-পা ভাঙার হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনার জের ধরে তাকে মারধর করা হয়েছে।”

নাছিমা বলেন, ওইদিন সন্ধ্যার পর তালতলী বাজারের একটি দোকানে চা খাচ্ছিলেন তার স্বামী। তখন উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টু, তার সহযোগী আনোয়ার হোসেন, আলী আহম্মেদ, চেয়ারম্যানের গাড়িচালক কালুসহ আরও কয়েকজন মিলে সুন্দর আলীকে ওই রেস্তোরাঁ থেকে বের করে হকিস্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে।

“পরে চেয়ারম্যান শত শত লোকের সামনে তাকে পেটাতে পেটাতে রাস্তা দিয়ে টেনেহিঁচড়ে তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে দরজা বন্ধ করে তাকে আবারও পেটানো হয়।”

অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ স্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সুন্দর আলী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া একজনের বায়না করা জমি কিনেছেন। এ কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে।”

তালতলী থানার ওসি বাবুল আক্তার বলেন, মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই সুন্দর আলীকে ছেড়ে দেওয়া হলে তার স্বজনরা চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষক বা তার পরিবার শনিবার পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেনি জানিয়ে ওসি বাবুল বলেন, “সুন্দর আলী অভিযোগ করলে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ