মঙ্গলবার ০৩ আগস্ট ২০২১
Online Edition

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ সহ আন্তঃনগর ট্রেন বৃদ্ধির দাবিতে গুমিছিল

সিরাজগঞ্জ থেকে আবদুস সামাদ: গত বৃহস্পতিবার সকালে সিরাজগঞ্জ স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আয়োজিত শহরের স্বাধীনতা স্কয়ারে সিরাজগঞ্জ এক সমাবেশ ও একটি গণমিছিল বের হয়। সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল সংযোগ, বাজার স্টেশন রেলওয়ে স্টেশন থেকে কড্ডা পর্যন্ত বাইপাস রেললাইন স্থাপন ও সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন হয়ে সকল আন্তঃনগর ট্রেন চলাচলসহ সিরাজগঞ্জের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ ও গনমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সকালে গণমিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এই সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথি ছিলেন  সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না। এছাড়া সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ডা. জহুরুল হক রাজাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু চালুর পর অনেকটাই রেলশূন্য হয়ে পড়ে সিরাজগঞ্জ। গত ১২ বছর ধরে সিরাজগঞ্জ স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটি ও স্থানীয় জন সাধারণের আন্দোলনের মুখে ২০১২ সালে ঈশ্বরদী থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করে সরকার। বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলা থেকে রেলপথে ঢাকা যেতে অন্তত ২শ’ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। এ কারণে একদিকে যেমন সময় অপচয়, অন্যদিকে ব্যয়ও অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ চালু হলে এই ২শ’ কিলোমিটার কমে আসবে। ফলে যাত্রীদের সময় ও অর্থ দুই সাশ্রয় হবে। সেই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া সিরাজগঞ্জ আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। একই সাথে সিরাজগঞ্জে কৃষিখাতসহ অন্যান্য ব্যবসা বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে।
সিরাজগঞ্জ স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহবায় ডা. জহুরুল হক রাজা বলেন, এক সময় বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে একমাত্র সিরাজগঞ্জ শহরেই রায়পুর, বাজার স্টেশন, বাহিরগোলা এবং যমুনার ঘাট নামে চারটি রেল স্টেশন ছিল। কালের বিবর্তনে বাহিরগোলা ও সিরাজগঞ্জ ঘাট বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ শহর অনেকাংশেই রেল সংযোগ থকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু সিরাজগঞ্জ শহরেই রয়েছে  রেলওয়ের ৮শ’ একর জমি জমি। যা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই সম্পত্তি ব্যবহার করেই সিরাজগঞ্জের উন্নয়ন অনেকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই জমি ব্যবহার করে রেলওয়ের উন্নয়ন ঘটানো হলে সরকারও বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান পাবে। একই সাথে এক সময় সিরাজগঞ্জবাসীর যোগাযোগের বড় মাধ্যম ছিল ট্রেন। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূর দিয়ে রেল লাইন স্থাপন করা হয়। এর পরই যাতায়াত দুর্ভোগ  নেমে আসে সিরাজগঞ্জবাসীর। তাই নতুন রেলপথ স্থাপনের দাবীতে সিরাজগঞ্জবাসী একজোট হয়ে আবারো জোরদার আন্দোলনে নেমেছে। যে কারণে সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করতেই তাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আর এখন এ আন্দোলন সামাজিকভাবে হলেও কোন এক সময় তা তা পরিবর্তিত হয়ে রাজনেতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ