ঢাকা, শনিবার 19 June 2021, ৫ আষাঢ় ১৪২৮, ৭ জিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

বিজিবি চেয়ে আরো ১২ জেলা থেকে চিঠি

নিরাপত্তা বিবেচনায় গত তিন দিনে আরো ১২ জেলা থেকে প্রায় ৬০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ এসেছে ঢাকায়। এ নিয়ে চলতি মাসে প্রায় ৫৪ জেলার প্রশাসকেরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিজিবি চেয়ে চিঠি পাঠালেন। আরটিএনএন এখবর দিয়েছে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে আনসার মোতায়েনেরও অনুরোধ এসেছে। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে সাতটি জাদুঘরের জন্য ১২০ জন আনসার চাওয়া হয়েছে। এর আগে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩২ জেলায় ১২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফোর্স নিয়োগের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) গতকাল রবিবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জেলা প্রশাসকদের চাহিদা অনুযায়ী যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই বিজিবি-আনসারসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া যেসব স্থানে প্রয়োজন, যৌথ অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রতিদিনই জেলা প্রশাসকদের চাহিদাপত্র তদারক করা হচ্ছে। যেখানে নিরাপত্তা প্রয়োজন দেওয়া হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন সম্পদ ও স্থাপনা হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর কারণে বিজিবি চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে চোরাগোপ্তা হামলা অনেক বেড়ে গেছে, অগ্নিসংযোগ বেড়েছে। আমরা যত পরিমাণে বিজিবি ও আনসার চাইছি, দেওয়া হচ্ছে না।’
তিনি জানান, ‘আমরা কয়েকবার আনসার ও বিজিবি দেওয়ার জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছি। কিন্তু ২৫ লাখ লোকের এই জেলায় মাত্র দুই প্লাটুন বিজিবি দেওয়া হয়েছে।’
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, লোহাগাড়া আর সাতকানিয়া হচ্ছে স্পর্শকাতর এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল রবিবার দুটি স্থানে আনসার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশকে নিয়ে বিজিবি কাজ করছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরের অবস্থা আগের চেয়ে হঠাৎ করেই নাজুক হয়েছে। যদিও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকাশ্য তো কিছু হচ্ছে না। তবে চোরাগোপ্তা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেছেন, মাঠ প্রশাসনকে ঠিক রাখার জন্য দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যা যা করণীয় করা হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
বিজিবি চেয়ে চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অবরোধ ও হরতালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে বিজিবি মোতায়েন করা প্রয়োজন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও রেল রক্ষায় সার্বিক সহায়তা করতে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তিন প্লাটুন বিজিবি দরকার।
খুলনার জেলা প্রশাসক চার উপজেলায় চার প্লাটুন বিজিবি, ঝিনাইদহ চার প্লাটুন, নীলফামারী দুই প্লাটুন, চট্টগ্রামে ছয় প্লাটুন ও ঢাকায় ২০ প্লাটুন বিজিবি চাওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার আরো ছয়টি জেলায় ১৯ প্লাটুন বিজিবি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে টেলিফোনেও বিশেষ সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।
দুদিনের হরতালে মোতায়েন ২১৬ প্লাটুন
এদিকে, বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা রবি ও সোমবারের ৩৬ ঘণ্টা হরতালের শেষদিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ২১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আরো ৭৮ প্লাটুন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মুহসীন রেজা বলেছেন, ‘শুধু রাজধানীর নিরাপত্তার স্বার্থে সোমবার ভোর থেকে ৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে ২০৮ প্লাটুন বিজিবি।’
তিনি জানান, এর মধ্যে মহাসড়কে নিরাপত্তার জন্য ১২৩ প্লাটুন এবং বিভিন্ন স্থানে নাশকতা এড়াতে দায়িত্ব পালন করছে ৮৫ প্লাটুন।
জরুরি ভিত্তিতে মোতায়েনের জন্য ৭৮ প্লাটুন বিজিবি প্রস্তত রাখা হয়েছে বলেও জানান মুহসীন রেজা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ