গত মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার যশলং এর বাঘিয়া বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইউনিয়ন শাখা'র আয়োজনে পবিত্র মাহে রমযানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামী যশলং ইউনিয়ন আমীর সৈয়দ আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে, ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ এর সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল, মুন্সিগঞ্জ জেলার সাবেক আমীর প্রফেসর এবিএম ফজলুল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম বলেন, আমরা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দ্বিতীয় বারের মতো স্বাধীনতা পেয়েছি, এখন সবাই বৈষম্য বিরোধী কথা বলি, আপনি যে আল¬াহকে হাজির নাজির যেনে বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ হিসেবে ৫৪ বছর যাবত আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য স্বাধীনতার স্বাদ আমরা এখনো গ্রহণ করিতে পারিনাই। বারংবার আপনারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য পর্যন্ত নির্বাচিত করেছেন, প্রার্থীরা আপনাদের নিকট গিয়ে বলেছে, এবার নির্বাচিত হলে এটা করে দিবো সেটা করে দিবো কিন্তু সকলটাই শুভংকরের ফাঁকি। আগামীতেও নির্বাচন হবে, আমরা বাছাই করবো কে ভালো মানুষ আর কে ভন্ড মানুষ। আমাদের দূর্ভাগ্য যে আমার ভোটটা আমি যাকে খুশী তাকে দিবো এই সৌভাগ্য দীর্ঘ ১৬ বছরে আমার হয় নাই। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখি যে আগেই ভোট হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে যুবসমাজ ১৫-২০ বছর যাবত ভোটার হয়েছে তারা প্রকৃত ভোটের স্বাদ পায় নাই। সুতরাং দেশ ও জাতির এই ক্লান্তি লগ্নে যারা মসুলিম তাদের এখান দায়িত্ব পালনের সময় এসেছে। ৫৪ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা বলেছিল আমরা সোনার বাংলা করে দেব, কিন্তু সোনার বাংলা কেনো তামার বাংলাও দিতে পারে নাই। তিনি আরো বলেন, স্বাধীতার পর শেখ মুজিব বলেছিলেন আপনারা সোনার বাংলা নির্মাণে আত্মনিয়োগ করুণ, সেই তিনিই দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন বিশ্বের অন্যদেশ পায় সোনার ক্ষণি আর আমি শেখ মুজিব পেয়েছি চোরের ক্ষণি,। এভাবেই কেউ সোনার বাংলার কথা বলেছিল আমরা সহজ সরল মানুষ তাদের কথা শুনে তাদের ভোট দিয়ে ছিলাম। কেউ নতুন বাংলার গান গেয়েছিলো যে আপনাদের নতুন বাংলা উপহার দিবো আমাদের নির্বাচিত করুন।বরং স্বৈরাচারী পতিত সরকার বাংলাদেশে সাড়ে ১৬ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যে শিক্ষায় কোন ভালো মানুষ তৈরি করতে পারত না, যে শিক্ষায় অনৈতিক অসভ্য মানুষ হতো, এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো। সুতরাং যারা আল¬াহ ভালোবাসেন মুসলমান সকলে এবার ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে দেখুন দেশে শান্তি শৃঙ্খলা অবশ্যই ফিরে আসবে ইনশাআল¬াহ। উক্ত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য (উলামা বিভাগ) মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী টঙ্গীবাড়ী শাখার আমীর মাওলানা আবদুল বারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী টঙ্গীবাড়ী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।